Posts

Showing posts from November, 2024

কোলকাতার ঐতিহ্যের বিদায়ঘন্টা

  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন,  "কোলকাতা আছে কোলকাতাতেই" কিন্তু কোলকাতা হারিয়ে ফেলছে তার নিজস্বতা আধুনিকিকরনের চাপে।মানুষ যত ব্যস্ত হয়ে পরেছে বেড়েছে যানবাহনের গতি। মানুষ চেয়েছে সময়কে নিজের হাতের মুঠোয় আনতে।মাটির উপরে যতো ভীড় বেড়েছে,জ্যাম বেড়েছে,মাটির নীচে তত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে পাতাল রেল।কোলকাতার রাস্তায় হাওয়া খেতে খেতে ট্রামে গন্তব্যে যাওয়া হয়ে গেল পুরোনো,সময়সাপেক্ষ। তার থেকে দ্বিগুণ গতিতে মাটির তলায়,শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যানে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া অনেক সুবিধাজনক আরামদায়ক ।তখন কিন্তু একবারও মনে হয়নি কোলকাতার ঐতিহ্য কে নিজে হাতে গলা টিপে খুন করতে চলেছি।শুধু পাতালরেল নয়,একই দোষে তো দোষী, অ্যাপ ক্যাবও। সুবিধা আর আরাম কে হস্তগত করতে গিয়ে সেই কোলকাতার ঐতিহ্য কে আবার খুন করা হলো।প্রথমে চলে গেল ট্রাম আর আজ যাবার ঘন্টা বেজে উঠেছে হলুদ ট্যাক্সির।কোলকাতার দূষন বাড়াতে সহযোগ আছে ১৫ বছরের পুরোনো গাড়ির।কোলকাতার ট্যাক্সি তো কোন যুগ থেকে ছুটছে কোলকাতার রাস্তার। সে-ও এখন বৃদ্ধ, অবসর নেবার সময় বুঝি তারও এলো! একসাথে প্রায় সাড়ে চারহাজার হলুদ ট্যাক্সি বাতিল হতে চলেছে এই মুহুর্তে। ধীরে ধী...

বারানসি অগ্নিকান্ড

  ৩০শে নভেম্বর রাতে হঠাৎ করেই বারানসি ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনে এক বিশাল অগ্নিকান্ড সকলকে সচকিত করে দেয়। পার্কিং-এ দাঁড়িয়ে থাকা দেড়শোটি দ্বিচক্রী যান ভস্মীভূত হয়ে যায়।পার্কিং স্থলের খুব কাছেই ছিল এক নম্বর প্লাটফর্ম। আগুন সেখানেই প্রথম লাগে এবং তারপর ছড়িয়ে পড়ে পার্কিং এলাকায়।আগুন যে কতোটা বিধ্বংসী ছিল তা ওই দ্বিচক্রযানগুলি দেখলেই বোঝা যেত।চারিদিকে পোড়া যন্ত্রাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য নামানো হয় আর.পি.এফ এবং জি.পি.এফ এবং আগুন অবশেষে আয়ত্তে আসে।কিন্তু ততক্ষনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে।তবে সুখের কথা এই যে কোনো হতাহতের খবর ছিলো না। অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার লালজি চৌধরী ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে বলেন যে ওই পার্কিং এলাকা প্রধানত রেলওয়ে কর্মীদের জন্যই ছিল।একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এই অগ্নিকাণ্ডের কারন অনুসন্ধান করে তদন্ত করার জন্য।

ইতিহাস শুধু স্বপ্ন

  যেদিন থেকে পড়াশোনার দুনিয়ায় ঢুকেছি,ইতিহাসের প্রতি ছিল এক অমোঘ টান। বাবা মুঘোল ইতিহাসের গল্প বলতেন,আর আমি শুনতাম।বিচরন করতাম স্বপ্নের দেশে।সম্রাট আকবর ছিলেন আমার স্বপ্নের নায়ক,বীর,সজ্জন পুরুষ।তখন থেকেই মনে মনে ইচ্ছে ছিল আগ্রা যাবো। আমার স্বপ্ন এনেদিলো সুযোগ, নানা প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে পৌঁছে গেলাম ফতেহপুর সিক্রি। এটা ছিলো সম্রাট আকবরের তৈরি একটি ছোট শহর।সীমানায় পা দিতেই সর্ব শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠলো।চোখের সামনে আকবর, যোধাবাঈ,বীরবল,তোডোরমল,মানসিং সবাই যেন শশরীরে চলাফেরা করতে লাগলো।ঘোড়াশাল-হাতিশাল থেকে যেন ডাক শুনতে পাচ্ছিলাম। ঘোড়ার খুরের আওয়াজ,মানুষের কোলাহল,অস্ত্রের ঝনঝন, রানীদের অলঙ্কারের রিনরিন সব কিছু শুনতে পাচ্ছিলাম,চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম! চোখের সামনে ইতিহাসের পৃষ্ঠা উলটে যাচ্ছিল।বাস্তবের সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিমের দিকে হেলে পরছিল, আমাদের ফিরতে হবে। হয়তো সূর্য ডুবলে অতীত থেকে তারা সকলে নেমে আসে এই পরিত্যক্ত শহরে,আপন খেয়ালে শুরু হয় রাজপাট। পাথরের খাঁজ থেকে টেনে বার করে আরও অনেক লুকিয়ে থাকা ঘটনা,গল্প,কল্পকথা - যা আমরা জানি না কোনোদিন তার ইতিহাস লেখা হয়নি!  সব কিছু পি...

পাকা দেখা

  সবে মাত্র স্নাতক উত্তীর্ণ হয়েছি,ইচ্ছে আছে আরো এগোবার,ঠিক তখনই কানে বেজে উঠলো, "ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে"। মফস্বলের শহর দূর্গাপুরে মানুষ,প্রচুর বিয়ে খেয়েছি কিন্তু নিজের বিয়েতে যে কত বিপাকে পড়বো সেটা বুঝতে বুঝতেই বিয়ে হয়ে গেল।  সে যাই হোক কথা হলো পাকাদেখা নিয়ে সেরকম কোনো বিশেষ ব্যাপার আমার হয়নি। আমার বিয়ে ঠিক হয়েছিল আটাস বছর আগে সংবাদপত্র দেখে।আমার বাবা-মা বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে আমার শ্বশুরমশাই চিঠি দিয়েছিলেন।বলা যেতে পারে আমার বিয়ে হয়েছিল শোকের বাতাবরণে। আমার বিয়ের ছ'মাস আগে আমার শ্বাশুড়ি মা গত হন।বাড়ি গৃহীনি শুন্য হয়ে পড়ায় শ্বশুর মশাই ছেলের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।প্রথমদিন আমার শ্বশুরমশাই, জ্যাঠাশ্বশুর আমাকে দেখতে এলেন, সেদিনই ওনারা কথা দিয়ে গিয়েছিলেন। তবু শ্বশুর মশাই বললেন "২৪ শে এপ্রিল আমার স্ত্রীর বাৎসরিক কাজ সেড়ে আমার ছেলে আসবে মেয়ে দেখতে"। পরদিন ২৫শে এপ্রিল ছেলের বন্ধু ফোন করে বল্ল ছেলেপক্ষ থেকে সবুজ সংকেত দিয়েছে।আমরা তখন কোলকাতায় মামার বাড়িতে। মামা বললেন মেদিবসে ছেলেকে আশির্বাদ করে বিয়েটা পাকা করে রাখা হোক। সেই অনুযায়ী মে দিবস মামা,পিসেমশাই,ছোটকাকা,মা,...

অনলাইন

  প্রতিদিনের একটা একঘেয়ে জীবন চলছিল সকলের।হঠাৎ করে যেন এক ঝড় এসে গোটা পৃথিবীকে তোলপাড় করেদিলো। "কোভিড"!!  কত মানুষ তাদের প্রিয়জন হারালেন।কত কত পরিবার শেষ হয়ে গেল,ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিলেন লকডাউনের।রাতারাতি জনবহুল রাস্তাঘাট হয়েগেল শুনশান,মানুষ শুধু আতঙ্কের সাথে সহবাস করতে শুরু করলো।প্রিয়জনেরা হয়ে গেল দূরের মানুষ,শুধু ভয় আর ভয়,গ্রাস করে ফেল্ল গোটা পৃথিবীটাকে। এই অবস্থায় কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে এলো বিশাল বিপর্যয়। ছোটবড় সংস্থাগুলো কর্মীছাটাই শুরু করলো।মোটামুটি সব সংস্থা পঞ্চাশ শতাংশ হারে কর্মী ছাটাই করে ফেল্ল।তবে এসবের মধ্যে ভালো খবর এটাই ছিলো যে লকডাউনের ফলে কোভিড সংক্রমণ কমতে লাগলো,এবং একসময় লকডাউন উঠেও গেল।একে একে শুরু হলো কাজ কর্ম।এতদিনে মানুষের অভ্যেস বদলেছে।মানুষ বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করার থেকে অনলাইনে কেনাকাটা তে ভীষনভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়লো। লকডাউনের ফলে যে সমস্ত সেলসের কর্মীরা কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছিলেন তারা নতুন করে বাঁচার রাস্তা দেখতে পেলেন।বিভিন্ন অনলাইন শপিং অ্যাপগুলিতে কাজের চাপ বাড়লো,বাড়লো কর্মীর প্রয়োজনীয়তা।ছোটখাটো কারখানা গুলো, যেগুলো বন্ধ হয়ে যাবার ফলে কর্মীরা প...

আমার প্রিয় শহর #কোলকাতা

এই শহরে এসেছিলাম অনেক #স্বপ্ন নিয়ে।মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েতো, তাই স্বপ্ন দেখেছিলাম সুন্দর ভরা সংসার হবে আমার। কিন্তু এই শহর আমায় বুঝিয়ে দিয়েছিল,কোনোকিছুই সহজে পাওয়া যায়না তার জন্য কৃচ্ছসাধন করতে হয়। নতুন শাড়ি গয়না,শোলার টোপর,ফুলের গয়নার মোহ কাটতে না কাটতেই এই শহর বুঝিয়ে দিয়েছিল, শ্বশুর মশাই 'বাবার মতো' হলেও বাবা হয়না। আমার স্বপ্ন ভঙ্গ হলো,প্রথম যেদিন উনি আমার গায়ে হাত তুল্লেন।আমি আমার স্বপ্ন নিয়ে স্বশব্দে মাটিতে আছড়ে পড়লাম। #এইশহর আমাকে দাঁড় করিয়ে দিলো কঠিন বাস্তবের সামনে।আমি উপার্জনের চেষ্টা শুরু করলাম।অর্থ আনতে হয়তো পারলাম না কিন্তু জীবনের অর্থ বুঝলাম।এই শহর আমায় বুঝিয়ে দিলো 'তোমার জায়গা বাইরে নয়'।ফিরে এলাম গৃহকোণে।সে গৃহকোন 'সুখী' ছিলোনা।রোজকার অশান্তিতে আমি এই শহর কে প্রশ্ন করতাম 'এই কি আমার পাবার ছিলো!শান্তি নয় স্বস্তি কি আমি পেতে পারিনা!এত কিছুর পরেও এই শহর আমাকে ছাড়েনি।মা বাবা চেয়েছিলেন আমাকে নিয়ে যেতে কিন্তু আমি এই শহর ছেড়ে যেতে পারিনি। এই শহরে থাকার ইচ্ছে আমাকে এগিয়ে নিয়ে চল্ল ভবিষ্যতের দিকে।আমি সন্তান স্নেহে আকুল হয়ে দেখলাম আমার দুটি সন্তানকেই গর্ভ...