পাকা দেখা
সবে মাত্র স্নাতক উত্তীর্ণ হয়েছি,ইচ্ছে আছে আরো এগোবার,ঠিক তখনই কানে বেজে উঠলো, "ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে"। মফস্বলের শহর দূর্গাপুরে মানুষ,প্রচুর বিয়ে খেয়েছি কিন্তু নিজের বিয়েতে যে কত বিপাকে পড়বো সেটা বুঝতে বুঝতেই বিয়ে হয়ে গেল।
সে যাই হোক কথা হলো পাকাদেখা নিয়ে সেরকম কোনো বিশেষ ব্যাপার আমার হয়নি। আমার বিয়ে ঠিক হয়েছিল আটাস বছর আগে সংবাদপত্র দেখে।আমার বাবা-মা বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে আমার শ্বশুরমশাই চিঠি দিয়েছিলেন।বলা যেতে পারে আমার বিয়ে হয়েছিল শোকের বাতাবরণে। আমার বিয়ের ছ'মাস আগে আমার শ্বাশুড়ি মা গত হন।বাড়ি গৃহীনি শুন্য হয়ে পড়ায় শ্বশুর মশাই ছেলের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।প্রথমদিন আমার শ্বশুরমশাই, জ্যাঠাশ্বশুর আমাকে দেখতে এলেন, সেদিনই ওনারা কথা দিয়ে গিয়েছিলেন। তবু শ্বশুর মশাই বললেন "২৪ শে এপ্রিল আমার স্ত্রীর বাৎসরিক কাজ সেড়ে আমার ছেলে আসবে মেয়ে দেখতে"। পরদিন ২৫শে এপ্রিল ছেলের বন্ধু ফোন করে বল্ল ছেলেপক্ষ থেকে সবুজ সংকেত দিয়েছে।আমরা তখন কোলকাতায় মামার বাড়িতে। মামা বললেন মেদিবসে ছেলেকে আশির্বাদ করে বিয়েটা পাকা করে রাখা হোক। সেই অনুযায়ী মে দিবস মামা,পিসেমশাই,ছোটকাকা,মা, বাবা গেলেন ছেলে বাড়ি। আশির্বাদ সেড়ে বিয়েতে সীলমোহর দিলেন।আর ৩রা জুন ১৯৯৬ সকলের উপস্থিতি তে চারহাত এক হয়ে গেল।
Comments
Post a Comment