অনলাইন
প্রতিদিনের একটা একঘেয়ে জীবন চলছিল সকলের।হঠাৎ করে যেন এক ঝড় এসে গোটা পৃথিবীকে তোলপাড় করেদিলো।
"কোভিড"!!
কত মানুষ তাদের প্রিয়জন হারালেন।কত কত পরিবার শেষ হয়ে গেল,ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিলেন লকডাউনের।রাতারাতি জনবহুল রাস্তাঘাট হয়েগেল শুনশান,মানুষ শুধু আতঙ্কের সাথে সহবাস করতে শুরু করলো।প্রিয়জনেরা হয়ে গেল দূরের মানুষ,শুধু ভয় আর ভয়,গ্রাস করে ফেল্ল গোটা পৃথিবীটাকে।
এই অবস্থায় কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে এলো বিশাল বিপর্যয়। ছোটবড় সংস্থাগুলো কর্মীছাটাই শুরু করলো।মোটামুটি সব সংস্থা পঞ্চাশ শতাংশ হারে কর্মী ছাটাই করে ফেল্ল।তবে এসবের মধ্যে ভালো খবর এটাই ছিলো যে লকডাউনের ফলে কোভিড সংক্রমণ কমতে লাগলো,এবং একসময় লকডাউন উঠেও গেল।একে একে শুরু হলো কাজ কর্ম।এতদিনে মানুষের অভ্যেস বদলেছে।মানুষ বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করার থেকে অনলাইনে কেনাকাটা তে ভীষনভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়লো। লকডাউনের ফলে যে সমস্ত সেলসের কর্মীরা কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পরেছিলেন তারা নতুন করে বাঁচার রাস্তা দেখতে পেলেন।বিভিন্ন অনলাইন শপিং অ্যাপগুলিতে কাজের চাপ বাড়লো,বাড়লো কর্মীর প্রয়োজনীয়তা।ছোটখাটো কারখানা গুলো, যেগুলো বন্ধ হয়ে যাবার ফলে কর্মীরা পড়েছিল অকূল পাথারে। কতোটুকুই বা সঞ্চয় ছিলো তাদের!অনেকে তো ঘটিবাটি বেচে পরিবারের অন্ন সংস্থান করেছিল।তারা যেন স্বর্গ হাতে পেল।ব্যবসারও যেন এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল। মিষ্টি, স্ন্যাকস, ফুল,জল, ঠান্ডা পানীয়,অসুধ,সবজি, মাছ মাংস, কিনা পাওয়া যেতে লাগলো অনলাইনে! আর সেগুলো পৌঁছে দিতে লাগলো কারা! সেই যে, যারা একসময় আত্মহত্যার কথা ভেবেছিল, পরিবারের সকলের মুখে দুবেলা দুমুঠো ভাত তুলে দেবার অপারগতায়।আজ তাদের মুখে হাসি পরিবারের সকলের মুখে হাসি।বাবার চিকিৎসার খরচ,বিবাহযোগ্যা বোনের বিয়ে,ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ,মায়ের নতুন শাড়ির জন্য খরচ করে হাসিমুখে মাথা উঁচু করে চলতে পারে তারা। অসহায় মানুষগুলোর সামনে খুলে গেছে নতুন দিগন্ত।
Comments
Post a Comment