Posts

নারী জন্ম

 নারীর জন্ম হয় পাঁচবার।প্রথম যখন সে মাতৃজঠর থেকে ভুমিষ্ট হয় তখন সে শুধু মাত্র একটা মাটির তাল।যতবয়স বাড়ে তার মধ্যে অবয়ব সৃষ্টি হয়ে থাকে।নারীর দ্বিতীয় জন্ম হলো কন্যা।তাকে যেমন নিজের সম্মানের খেয়াল রখতে হয়,তেমনি খেয়াল রাখতে হয় মা বাবার সম্মানের।প্রতি পদে পদে শঙ্কা এই বুঝি কোনো ভুল হয়ে গেল!কোনটা ভুল, কোনটা ঠিক বুঝতে বুঝতেই কেটে যায় এই জন্ম, পৌঁছায় সে আর এক জন্মে।সেখানে নারী প্রেমিকা।জীবনে প্রেম আসাটা খুবই স্বাভাবিক কিন্তু সমাজ তাকে বুঝিয়ে দেয়, না! প্রেম হলো অন্যায়, এতে সমাজ কলুষিত হয়! প্রেমে পরা নারী সমাজে থাকার অযোগ্য! এই জন্মে নারী শেখে এক নতুন বিদ্যা যা হলো মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া।নারী নিজের থেকে বেশি তার প্রেমিক কে বাঁচাতে বলতে শেখে মিথ্যে বলা,কথা গোপন করতেও শিখে যায়।যে নারী, মা, দিদি বা বোন, প্রিয় বন্ধুকে কোন কথা লুকিয়ে রাখতে পারতোনা, সে নারীই তার একান্ত গোপন কথা একান্তেই রেখে দেয়।সমাজ তাকে শিখিয়ে দেয় সমাজে চলার নিয়ম।প্রাকৃতিক নিয়মেই নারী এগিয়ে যায় জীবনের পথে।নারীর চতুর্থ জন্ম হয়, সে এখন স্ত্রী। সহজাত ধারনায় সে বুঝে যায় তাকে কি করতে হবে।নারী বোঝে তার দায়িত্ব কতোখানি গুরুত্বপূর্ণ। এখন ...

মানবিকতা

 আজ দুটো ঘটনার অবতারণা করবো।প্রথমটি আমার নিজের চোখে দেখা। নন্দন যাচ্ছি সিনেমা দেখতে,মেট্রো স্টেশনথেকে ফুটপাত ধরে হেঁটে যাবার সময় দেখলাম সার্কাস এভিনিউয়ে বিশাল বড় সিগনাল পড়েছে আর সেখানে আটকে একটা অ্যাম্বুলেন্স হুটার বাজিয়েই চলেছে।কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই, এমন কি ট্রাফিক পুলিশেরও না!কিছু পথচারী হুটারের শব্দে বিরক্ত হয়ে তাকাচ্ছে।কিন্তু কেউ একবারও উদ্দোগ নিলো না যে গাড়িগুলোকে সামলে অ্যাম্বুলেন্স টাকে বার করে দিক। অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেলহা একটা ঘটনা। এক ব্যক্তি তার অসুস্থ রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে মুম্বাইয়ের বাইরে থেকে ঢুকছে,মুম্বাইতে। প্রচন্ড জ্যাম,ব্যক্তিটি বলছেন গুগল ম্যাপে দেখাচ্ছে তার গন্তব্য ২ ঘন্টার রাস্তা।হঠাৎ সেখানে উদয় হয় এক বাইক আরোহী একটি ছেলে।সে রাস্তার অন্য গাড়িওয়ালাদের ধমকে গাড়ি ফাঁক ফোকর দিয়ে দিব্যি সুন্দর দুটো অ্যাম্বুলেন্স কে বার করে নিয়ে গেল।অ্যাম্বুলেন্সে বসা ব্যক্তি বললেন ২ঘটার বদলে ১ঘন্টা১০ মিনিটে পৌঁছে গেলো তারা। একই ঘটনার দুটি ভিন্ন রূপ দেখালো দুটি ভিন্ন শহর।মানবিকতা আসে মনের ভিতর থেকে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোনো মানুষ বলে শেখাতে পারেনা।তবে এই মানবিকত...

বাঙালিয়ানার পরিবর্তন

  আমরা বাঙ্গালীরা নিজেদের জিনিস ধরে রাখতে পারি বা না পারি, অন্যের জিনিস খুব তাড়াতাড়ি করায়ত্ব করে নেই গর্বের সাথে।আমি বলছিনা সেটা খারাপ কিন্তু এসব করতে গিয়ে আমাদের বাঙালিয়ানা,ঐতিহ্য যে বিদায় নিতে চলেছে সেসব কেউ আর ভেবে দেখে না।  শীতকাল বিয়ের মরসুম চলছে তাই সেই অনুষ্ঠান কেই উদাহরণ স্বরূপ টেনে আনছি... বিয়ের আগেরদিন রাতে হচ্ছে 'সংগীত'।এখন 'গায়ে হলুদ' হয়না হয় 'হলদি'।গায়ে হলুদে, হলুদ শাড়ি হয়তো আছে, কিন্তু তাতে হাল্কা সোনার গহনার প্রাধান্য নেই,আছে নকল ফুলের গহনা।বিয়ের সময় পরা হচ্ছে বেনারসির বদলে 'লেহেঙ্গা'।এখন 'শয্যা তুলুনি' 'দোর আগলানো' পুরোনো হয়ে গেছে, এখন হয় 'জুতো চুরি'।পরিবেশিত খাবারও তথৈবচ!  একটা সময় স্কুলে অনুষ্ঠান মানে সেখানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরে মেয়েরা মাথায় জুঁইফুলের মালা লাগিয়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে রবীন্দ্রসংগীত নজরুল গীতি পরিবেশন করতো,কবিগুরু-নজরুল-সুকান্তের কবিতা আবৃত্তি হতো।এখন হয় চটুল হিন্দিগানের সাথে নাচ আর রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম, সুকান্তর ছবি মালাহীন অবস্থায় অযত্নে বিবর্ণ হয়ে কোন এক ঘরে ভাঙাচোরা চেয়ার টেবিলের সাথে পড়ে রয়...

কোলকাতার ঐতিহ্যের বিদায়ঘন্টা

  বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন,  "কোলকাতা আছে কোলকাতাতেই" কিন্তু কোলকাতা হারিয়ে ফেলছে তার নিজস্বতা আধুনিকিকরনের চাপে।মানুষ যত ব্যস্ত হয়ে পরেছে বেড়েছে যানবাহনের গতি। মানুষ চেয়েছে সময়কে নিজের হাতের মুঠোয় আনতে।মাটির উপরে যতো ভীড় বেড়েছে,জ্যাম বেড়েছে,মাটির নীচে তত দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে পাতাল রেল।কোলকাতার রাস্তায় হাওয়া খেতে খেতে ট্রামে গন্তব্যে যাওয়া হয়ে গেল পুরোনো,সময়সাপেক্ষ। তার থেকে দ্বিগুণ গতিতে মাটির তলায়,শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যানে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া অনেক সুবিধাজনক আরামদায়ক ।তখন কিন্তু একবারও মনে হয়নি কোলকাতার ঐতিহ্য কে নিজে হাতে গলা টিপে খুন করতে চলেছি।শুধু পাতালরেল নয়,একই দোষে তো দোষী, অ্যাপ ক্যাবও। সুবিধা আর আরাম কে হস্তগত করতে গিয়ে সেই কোলকাতার ঐতিহ্য কে আবার খুন করা হলো।প্রথমে চলে গেল ট্রাম আর আজ যাবার ঘন্টা বেজে উঠেছে হলুদ ট্যাক্সির।কোলকাতার দূষন বাড়াতে সহযোগ আছে ১৫ বছরের পুরোনো গাড়ির।কোলকাতার ট্যাক্সি তো কোন যুগ থেকে ছুটছে কোলকাতার রাস্তার। সে-ও এখন বৃদ্ধ, অবসর নেবার সময় বুঝি তারও এলো! একসাথে প্রায় সাড়ে চারহাজার হলুদ ট্যাক্সি বাতিল হতে চলেছে এই মুহুর্তে। ধীরে ধী...

বারানসি অগ্নিকান্ড

  ৩০শে নভেম্বর রাতে হঠাৎ করেই বারানসি ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনে এক বিশাল অগ্নিকান্ড সকলকে সচকিত করে দেয়। পার্কিং-এ দাঁড়িয়ে থাকা দেড়শোটি দ্বিচক্রী যান ভস্মীভূত হয়ে যায়।পার্কিং স্থলের খুব কাছেই ছিল এক নম্বর প্লাটফর্ম। আগুন সেখানেই প্রথম লাগে এবং তারপর ছড়িয়ে পড়ে পার্কিং এলাকায়।আগুন যে কতোটা বিধ্বংসী ছিল তা ওই দ্বিচক্রযানগুলি দেখলেই বোঝা যেত।চারিদিকে পোড়া যন্ত্রাংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য নামানো হয় আর.পি.এফ এবং জি.পি.এফ এবং আগুন অবশেষে আয়ত্তে আসে।কিন্তু ততক্ষনে ক্ষতি যা হবার হয়ে গেছে।তবে সুখের কথা এই যে কোনো হতাহতের খবর ছিলো না। অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার লালজি চৌধরী ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করে বলেন যে ওই পার্কিং এলাকা প্রধানত রেলওয়ে কর্মীদের জন্যই ছিল।একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এই অগ্নিকাণ্ডের কারন অনুসন্ধান করে তদন্ত করার জন্য।

ইতিহাস শুধু স্বপ্ন

  যেদিন থেকে পড়াশোনার দুনিয়ায় ঢুকেছি,ইতিহাসের প্রতি ছিল এক অমোঘ টান। বাবা মুঘোল ইতিহাসের গল্প বলতেন,আর আমি শুনতাম।বিচরন করতাম স্বপ্নের দেশে।সম্রাট আকবর ছিলেন আমার স্বপ্নের নায়ক,বীর,সজ্জন পুরুষ।তখন থেকেই মনে মনে ইচ্ছে ছিল আগ্রা যাবো। আমার স্বপ্ন এনেদিলো সুযোগ, নানা প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে পৌঁছে গেলাম ফতেহপুর সিক্রি। এটা ছিলো সম্রাট আকবরের তৈরি একটি ছোট শহর।সীমানায় পা দিতেই সর্ব শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে উঠলো।চোখের সামনে আকবর, যোধাবাঈ,বীরবল,তোডোরমল,মানসিং সবাই যেন শশরীরে চলাফেরা করতে লাগলো।ঘোড়াশাল-হাতিশাল থেকে যেন ডাক শুনতে পাচ্ছিলাম। ঘোড়ার খুরের আওয়াজ,মানুষের কোলাহল,অস্ত্রের ঝনঝন, রানীদের অলঙ্কারের রিনরিন সব কিছু শুনতে পাচ্ছিলাম,চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিলাম! চোখের সামনে ইতিহাসের পৃষ্ঠা উলটে যাচ্ছিল।বাস্তবের সূর্য তখন ধীরে ধীরে পশ্চিমের দিকে হেলে পরছিল, আমাদের ফিরতে হবে। হয়তো সূর্য ডুবলে অতীত থেকে তারা সকলে নেমে আসে এই পরিত্যক্ত শহরে,আপন খেয়ালে শুরু হয় রাজপাট। পাথরের খাঁজ থেকে টেনে বার করে আরও অনেক লুকিয়ে থাকা ঘটনা,গল্প,কল্পকথা - যা আমরা জানি না কোনোদিন তার ইতিহাস লেখা হয়নি!  সব কিছু পি...

পাকা দেখা

  সবে মাত্র স্নাতক উত্তীর্ণ হয়েছি,ইচ্ছে আছে আরো এগোবার,ঠিক তখনই কানে বেজে উঠলো, "ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে"। মফস্বলের শহর দূর্গাপুরে মানুষ,প্রচুর বিয়ে খেয়েছি কিন্তু নিজের বিয়েতে যে কত বিপাকে পড়বো সেটা বুঝতে বুঝতেই বিয়ে হয়ে গেল।  সে যাই হোক কথা হলো পাকাদেখা নিয়ে সেরকম কোনো বিশেষ ব্যাপার আমার হয়নি। আমার বিয়ে ঠিক হয়েছিল আটাস বছর আগে সংবাদপত্র দেখে।আমার বাবা-মা বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তার পরিপ্রেক্ষিতে আমার শ্বশুরমশাই চিঠি দিয়েছিলেন।বলা যেতে পারে আমার বিয়ে হয়েছিল শোকের বাতাবরণে। আমার বিয়ের ছ'মাস আগে আমার শ্বাশুড়ি মা গত হন।বাড়ি গৃহীনি শুন্য হয়ে পড়ায় শ্বশুর মশাই ছেলের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।প্রথমদিন আমার শ্বশুরমশাই, জ্যাঠাশ্বশুর আমাকে দেখতে এলেন, সেদিনই ওনারা কথা দিয়ে গিয়েছিলেন। তবু শ্বশুর মশাই বললেন "২৪ শে এপ্রিল আমার স্ত্রীর বাৎসরিক কাজ সেড়ে আমার ছেলে আসবে মেয়ে দেখতে"। পরদিন ২৫শে এপ্রিল ছেলের বন্ধু ফোন করে বল্ল ছেলেপক্ষ থেকে সবুজ সংকেত দিয়েছে।আমরা তখন কোলকাতায় মামার বাড়িতে। মামা বললেন মেদিবসে ছেলেকে আশির্বাদ করে বিয়েটা পাকা করে রাখা হোক। সেই অনুযায়ী মে দিবস মামা,পিসেমশাই,ছোটকাকা,মা,...