বাঙালিয়ানার পরিবর্তন
আমরা বাঙ্গালীরা নিজেদের জিনিস ধরে রাখতে পারি বা না পারি, অন্যের জিনিস খুব তাড়াতাড়ি করায়ত্ব করে নেই গর্বের সাথে।আমি বলছিনা সেটা খারাপ কিন্তু এসব করতে গিয়ে আমাদের বাঙালিয়ানা,ঐতিহ্য যে বিদায় নিতে চলেছে সেসব কেউ আর ভেবে দেখে না।
শীতকাল বিয়ের মরসুম চলছে তাই সেই অনুষ্ঠান কেই উদাহরণ স্বরূপ টেনে আনছি... বিয়ের আগেরদিন রাতে হচ্ছে 'সংগীত'।এখন 'গায়ে হলুদ' হয়না হয় 'হলদি'।গায়ে হলুদে, হলুদ শাড়ি হয়তো আছে, কিন্তু তাতে হাল্কা সোনার গহনার প্রাধান্য নেই,আছে নকল ফুলের গহনা।বিয়ের সময় পরা হচ্ছে বেনারসির বদলে 'লেহেঙ্গা'।এখন 'শয্যা তুলুনি' 'দোর আগলানো' পুরোনো হয়ে গেছে, এখন হয় 'জুতো চুরি'।পরিবেশিত খাবারও তথৈবচ!
একটা সময় স্কুলে অনুষ্ঠান মানে সেখানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরে মেয়েরা মাথায় জুঁইফুলের মালা লাগিয়ে হারমোনিয়াম বাজিয়ে রবীন্দ্রসংগীত নজরুল গীতি পরিবেশন করতো,কবিগুরু-নজরুল-সুকান্তের কবিতা আবৃত্তি হতো।এখন হয় চটুল হিন্দিগানের সাথে নাচ আর রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ইসলাম, সুকান্তর ছবি মালাহীন অবস্থায় অযত্নে বিবর্ণ হয়ে কোন এক ঘরে ভাঙাচোরা চেয়ার টেবিলের সাথে পড়ে রয়েছে।এসব বিষয়ে যখনি কথা উঠেছে দোষ পড়েছে,স্মার্টফোনের ওপর।কিন্তু সত্যিই কি তাই!এটা কি আমাদেরই গাফিলতি নয়,ভবিষ্যত প্রজন্ম কে সঠিক পথ দেখাতে। এই যে চতুর্দিকে সামাজিক অবনতির কারন কি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলির নৈতিক পরিবর্তন? আজ যে প্রতিবাদ করেছেন একজন প্রসিদ্ধ গায়িকা, কেন সেই প্রতিবাদ করতে পারেন নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চতর পদাধিকারীরা।হয়তো সেই জায়গায় আমি থাকলে আমিও তাই করতাম।তাই এই প্রশ্নগুলো আজ নিজেকেই নিজে করছি,আমি আমার সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে পারছি তো?
Comments
Post a Comment